সাঘাটা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কাঁটাখালী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। নদী ভাঙন ও সীমানা জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে দুই থানার প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সারারাত বালু উত্তোলন করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খোরশেদ আলম গত ১৫ মে এই আবেদন দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়া (তালপট্টি) গ্রামের বাবলু (পিতা: মোঃ সাহেব মিয়া) এবং সাঘাটার কচুয়া গ্রামের শিহাব (পিতা: মোঃ মমিন) যোগসাজশ করে কাঁটাখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাঘাটা থানার রাম নগর গ্রামে নদীর সীমানা জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছেন। সাঘাটা থানার প্রশাসন গেলে তারা দাবি করেন মেশিন গোবিন্দগঞ্জ সীমানায়, আবার গোবিন্দগঞ্জ থানার প্রশাসন গেলে বলা হয় সাঘাটার সীমানায়। এভাবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্তত তিনটি ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে রাতভর বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শিহাব দিনের বেলা ড্রেজার মেশিনের বোর্ড খুলে লুকিয়ে রাখেন এবং সন্ধ্যা নামলেই মেশিন চালু করেন। সারারাত বালু উত্তোলনের বিকট শব্দে স্থানীয়দের রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে এলাকাবাসীকে পালিত মাস্তান বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি ও অপমান করা হয়।
বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা দায়ের এবং সরজমিনে তদন্তপূর্বক দ্রুত ড্রেজার মেশিন জব্দের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের অনুলিপি সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসি ল্যান্ড) বরবোরেও পাঠানো হয়েছে।
- রংপুর