গাইবান্ধায় বিএনপি নেতার ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যুবদলের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা; জামিনে বেরিয়ে হুমকির অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পাঠানো ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবদলের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিএনপি নেতা মো. ছামিউল ইসলাম। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মমিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। টাকা হারিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ছামিউল ইসলাম।

অভিযুক্ত মো. মমিন মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নানা অপকর্মের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. ছামিউল ইসলাম (৩৭) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি উপজেলার সীচা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মমিন মিয়াও একই উপজেলার সীচা চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ দুপুরে গাইবান্ধা সদর থানাধীন ২ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন ডাচ্‌-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাদ এন্টারপ্রাইজের অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ টাকা পাঠান ছামিউল ইসলাম। ওই টাকা উত্তোলনের জন্য দলীয়ভাবে সুসম্পর্ক গড়ে উঠা মমিন মিয়াকে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মমিন টাকা উত্তোলনের পর বাদীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। পরে তার মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়াও টাকা আত্মসাৎ করার জন্য অপহরণের নাটক সাজান চতুর মমিন মিয়া।

এ ঘটনায় ছামিউল ইসলাম গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মমিন মিয়াকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদী ছামিউল ইসলাম জানান, পূর্বপরিচয়ের সুবাদে বিশ্বাস করে মমিনকে টাকা আনতে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টাকা নিয়ে আর যোগাযোগ না করায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তার দাবি, ৬ লাখ টাকা হারিয়ে ব্যবসায়িকভাবে তিনি একেবারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্যবসা পরিচালনা করতে তাকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মমিন মিয়া শুরু থেকেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তিনি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে ছামিউল ইসলামের কাছে জমা দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মমিন মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মমিন মিয়া বাদী ছামিউল ইসলামকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। ছামিউল ইসলামের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহার এবং পাওনা টাকা নিয়ে আর কোনো দাবি না করার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মমিন মিয়া বলেন, “আমি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ছামিউলকে দিয়েছি।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমকির অভিযোগের পক্ষে কল রেকর্ড, মেসেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যসহ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হলে তা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি হুমকির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন বাদী ছামিউল ইসলাম।

স্থান:

    মন্তব্য করুন