মোঃ কামরুল হাসান পায়েল,সাঘাটা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুল তাইড় গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা ছামিরন বেগম দীর্ঘ ৫ মাস নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রচার এবং মাদারীপুরে কর্মরত এক যুবকের মানবিক উদ্যোগে তাঁকে উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মাস আগে ছামিরন বেগম নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। আত্মীয়স্বজনসহ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের। পরবর্তীতে নিখোঁজ বৃদ্ধাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন সচেতন এলাকাবাসী ও স্থানীয় তরুণরা। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছামিরন বেগমের ছবি ও বিবরণ দিয়ে পোস্ট করে সন্ধান চেয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার চালান। পাশাপাশি ‘দৈনিক গাইবান্ধার মুখ’ পত্রিকাতেও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
চাকরির সুবাদে মাদারীপুরে অবস্থান করা সাঘাটা থানার পুটিমারী গ্রামের তরুণ আশিক মাহমুদ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সেই পোস্ট ও সংবাদটি দেখতে পান। পরবর্তীতে মাদারীপুরে ছামিরন বেগমকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয় এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি তাঁর কাছে গিয়ে নাম-ঠিকানা সম্পর্কে কথা বলেন। বৃদ্ধার কথাবার্তায় ফেসবুকের সেই নিখোঁজের তথ্যের মিল পাওয়া যায়।
সঙ্গে সঙ্গে আশিক মাহমুদ ফেসবুকে থাকা তথ্যের সূত্র ধরে ছামিরন বেগমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে তাঁর ছেলে ও জামাই মাদারীপুর গিয়ে পৌঁছালে আশিক মাহমুদ তাঁদের হাতে ছামিরন বেগমকে নিরাপদে তুলে দেন। দীর্ঘ ৫ মাস পর প্রিয় মাকে সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়ে পরিবার ও স্বজনদের চোখে আনন্দের অশ্রু ঝরে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও শেয়ার করে এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করায় এলাকাবাসী, সচেতন তরুণ সমাজ এবং মাদারীপুরে ছামিরন বেগমকে খুঁজে পেতে ও পরিবারে ফিরিয়ে দিতে ভূমিকা রাখা আশিক মাহমুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও নিখোঁজ বৃদ্ধার পরিবার।
- রংপুর