অপরাধ

আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে ধর্মীয় সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ সাঘাটায়!

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিজ্ঞ আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ ও পুলিশের নিষেধ অমান্য করে পৈতৃক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। সাঘাটা উপজেলার ১০ নং বোনারপাড়া ইউনিয়নের কালপানি মৌজায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ‘মসজিদ কমপ্লেক্স’-এর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখলের অপচেষ্টা চালানোয় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথিসূত্রে জানা যায়, বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মির্জা এস এম সাহাদৎ হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মির্জা জুলফিকার হায়দার ও অন্যান্য ওয়ারিশগণ কালপানি মৌজার ১.৬৬ একর পৈতৃক জমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও মোঃ ছানা উল্যাদের সাথে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, গাইবান্ধা (মামলা নং-৬২/২০২৬) উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে নিজ নিজ অবস্থানে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে থাকার জন্য ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার আদেশ দেন এবং সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তা কার্যকরের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে জানা যায়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৮ আগস্ট সকালে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৫০), মোঃ আশরাফ আলী (৬০) ও মোঃ শাহারুল মিয়ার (৫৫) নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা জমিতে রোপণকৃত ধানের চারা গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং ভুক্তভোগীদের খুন-জখমের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর চক্রটি পুনরায় টিনের বেড়া ও ইটের প্রাচীর দিয়ে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা তৈরির পাঁয়তারা চালায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল বিরোধ আড়াল করতে জমিতে ‘ওসমান (রাঃ) রুহমি মাদ্রাসা মসজিদ কমপ্লেক্স (নির্মাণাধীন ভবন)’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের অপকৌশল হিসেবেই এই সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সাঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪৬৭, তারিখ: ১২/০৮/২০২৬) এবং গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মির্জা জুলফিকার হায়দার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের প্রায় ৩০ বছরের ভোগদখলীয় পৈতৃক জমি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত জমি জোর করে দখল করে কি মসজিদ-মাদ্রাসা হয়? পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করতে বললেও তারা কোনো আইন মানছে না।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “এটি আমাদের দখলকৃত জমি এবং এর সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা এসিল্যান্ডের অনুমতিক্রমেই জমি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।”
এ বিষয়ে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “জমি দখল করা বা দখল আটকানো সরাসরি পুলিশের বিষয় নয়। তবে এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এমন জমি দখলের অপচেষ্টায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে এই অবৈধ দখল বন্ধে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থান:
  • রংপুর

Related posts

সাঘাটায় জামায়াত কর্মী সালাহ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

mdjhsagor0099@gmail.com

মন্তব্য করুন